তুহিন মাহমুদ, বিশেষ প্রতিনিধি(ইউরোপ) ১৫ ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ২০১৬ পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ কন্স্যুলেট জেনারেল মিলান কর্তৃক কন্স্যুলেট মিলনায়াতনে খতমে কোরআন,মিলাদ মাহফিল,বিশেষ মোনাজাত,স্মরণ সভা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশ কন্স্যুলেট জেনারেল মিলান এর কনসাল জেনারেল মিজ্ রেজিনা আহমেদ,অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্হানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ স্বাধীন বাংলাদেশের স্হপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন।
জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।
জাতীর শোকাবহ এই দিনে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের হাতে শাহাদাৎ বরণকারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্য সহ ঐ রাতে নিহতদের আত্নার মাগফিরাত কামনায় খতমে কোরআন,মিলাদ মাহফিল আয়োজন করা হয়।এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
মিলানের স্হানীয় একটি মসজিদের ইমাম হাফেজ আবুল হোসেন বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের হাতে নিহত সকল বিদেহী আত্নার মাগফেরাত কামনা করা হয়।এবং একটি সুখী -সমৃদ্ধ, দারিদ্র্যমুক্ত,সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মুক্ত সোনার বাংলাদেশ বির্নিমানের জন্য দোয়া করা হয়।
অনুষ্ঠানের মধ্যেভাগে স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই কনসাল রফিকুল করিম পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন! মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও মহামান্য রাষ্ট্র পতির বাণী পাঠ করে শোনান কনসাল জেনারেল মিজ্ রেজিনা আহমেদ।
বাণী পাঠের পর ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চলচিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্য চিত্র ” সোনালী দিনগুলো” প্রদর্শণ করা হয়।
এরপর সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেয় প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্হানীয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বক্তাগণ সকলেই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় স্বাধীনতার ঘোষক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য অবদান কৃতজ্ঞতা চিত্তে স্মরণ করেন।এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টের ঘৃন্য ও বর্বরেচিত হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। বাংলাদেশ কন্স্যুলেট জেনারেল মিলান এর কনসাল জেনারেল মিজ্ রেজিনা আহমেদ এর সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
সমাপনী বক্তব্যে মিজ্ রেজিনা আহমেদ ঘাতকদের হাতে নিহত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ঐদিন নিহত সকলের আত্নার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাস,ঐতিহ্য ও অগ্রগতিকে ধ্বংস করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালায়।তিনি আরও বলেন আল্লাহ্ ‘র অশেষ শোকরিয়া যে,ভাগ্যক্রমে বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা সেদিন বেঁচে গিয়েছিলেন এবং সে কারনেই আজ কে আমরা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব পেয়েছি।মাননীয় প্রধান মন্ত্রী তাঁর পিতা-মাতা,ভাই-বোন,আত্নীয় স্বজন হারানোর শোককে শক্তিতে রুপান্তরের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গঠনের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।কিন্তু ঘাতকচক্র এবং তাদের দোসররা এখনও পিছু ছাড়েনি। সে কারনেই বাংলাদেশের মাটিতে এখন ও সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মাঝে মধ্যে মাথা চাড়া দিয়ে উঠবার চেষ্টা করে।
কিন্ত বর্তমান সরকার সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে ” জিরো টলারেন্স” নীতি ঘোষনা করেছে।এর মাধ্যমে সরকার একটি সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মুক্ত, ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত,উন্নত ও সমৃদ্ধ এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের জন্য কাজ করছে।
উল্লেখ করে তিনি সরকারের এ নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে সকলকে যার যার অবস্হান থেকে সহযোগীতা করার আহবান জানান।কনসাল জেনারেল আরো বলেন,যদি আমরা সকলে মিলে বর্তমান সরকার ঘেষিত নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করি তাহলে।বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।জাতি পাবে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ এবং তাতে করে বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্না শান্তি পাবে।
অনুষ্ঠানে শত শত প্রবাসী বাংলাদেশী,কন্স্যুলেটের সকল সদস্য ও তাদের পরিবারবর্গ, মিলান বাঙলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ এবং স্হানীয় কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ উপস্হিত ছিলেন।
সবশেষে উপস্হিত সকলকে আপ্যায়ন করানো হয়।।